ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী-পুলিশের সংঘর্ষ: অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক :  শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শুক্রবার বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করেনি। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের গাড়ির ওপর উঠে পড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

আরও বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» স্বাস্থ্য খাতে স্বস্তির বার্তা, দ্রুত কাটবে হাসপাতালের সংকট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই শহিদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর রহমান

» রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না, এটা ‘ভুল কনসেপ্ট’: আখতার হোসেন

» বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

» কথা কম, কাজ বেশি নীতিতে চলবে ডিএনসিসি : প্রশাসক

» অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

» গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ

» মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

» আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

» সাংবাদিক হাফিজুর রহমান এর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,  মুক্তি’র দাবিতে  নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী-পুলিশের সংঘর্ষ: অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক :  শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শুক্রবার বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করেনি। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের গাড়ির ওপর উঠে পড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

আরও বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com